1. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Rahman Sabit : Fauzur Rahman Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নে বাবা ও আমি

কোজাগরী নির্জন মোহনা
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫
আমরা অনেকরকম স্বপ্ন দেখি। অনেক ভুলভাল স্বপ্ন থাকে।।আবার কিছু স্বপ্ন থাকে ইঙ্গিতবাহী। সব স্বপ্নের ব্যাখ্যা না থাকলেও কিছু কিছু স্বপ্নের ব্যাখ্যা অবশ্যই থাকে। এই নিয়ে অনেক অনেক বিতর্ক আছে। আমি কোনো বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে আজ দুটি স্বপ্নের কথা শেয়ার করছি। যে দুটি স্বপ্ন আমি কোনোভাবে কোনোরূপ পরিবর্তন না হয়ে একদম এক ভাবে দেখি। বাবা চলে যাওয়ার পর এই দুটি স্বপ্ন আমি ৪ থেকে ৫ বার দেখেছি এই ১২ বছরে। দুদিন আগে খাট থেকে পড়ে যাওয়া কথা লিখেছি। আমি জানি এটা নার্ভের দুর্বলতা থেকে হয়। অনেকেরই হয়। একটু মজা করে পোস্টটি শেয়ার করেছিলাম।
অনেকেই বিশ্বাস করবেন না ছোটোবেলায় খুব ছোটোতে, যে বয়স থেকে মানুষ মনে রাখতে শেখে সেই ৪/৫ বছরে আমি এমন অনেক স্বপ্ন দেখেছি যা আজ মিলে গেছে। বাবা আমায় সব সময় বলতেন এসব কাউকে বলবি না ছেলেধরা বস্তায় করে তাহলে ধরে নিয়ে যাবে। জানিনা কেন এই কথা বাবা আমায় বলতেন। আজও বুঝতে পারি নি।
বাবা চলে যাওয়ার পর আমি যে দুটি স্বপ্ন আজ অব্দি পাঁচবার দেখেছি তার প্রথমটি হলো:
১) গভীর সমুদ্রে আমি আর বাবা একটা নৌকো করে যাচ্ছি। আমি বাবার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি। নৌকো দুলতে দুলতে সমুদ্রে ভাসছে। হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয়। নৌকো দুলতে থাকে। দেখি নৌকো ফুটো হয়ে হু হু করে জল ঢুকছে। আমি বাবার হাত শক্ত করে ধরে বলি, বাবা তুমি তো সাঁতার জানো। তুমি তো ডুববে না। কিন্তু আমি তো সাঁতার জানি না বাবা। আমি যে সমুদ্রে ডুবে যাবো। বাবা বলে, তুই আমার হাতটা শক্ত করে যেমন ধরে আছিস, ঠিক সেভাবেই ধরে থাক। সমুদ্রে তুই কখনো ডুববি না।
২) দ্বিতীয় স্বপ্নটি হলো বাবা যখন থেকে ক্রাচার নিতে শুরু করে। দেখি রথবাড়ি, ৩৪ নং জাতীয় সড়ক দিয়ে আমি কিছুতেই পারাপার হতে পারছি না৷ চারদিক থেকে গাড়ি যেন আমায় এসে পিষে দেওয়ার মতো। আমি বাবাকে বলছি বাবা আমি কিছুতেই রাস্তা পার হতে পারছি না৷ ক্রাচ নিয়ে চলা বাবা, আমায় বলে তুই আমার হাতটা শক্ত করে ধর। ঠিক পার হয়ে যাবি৷ কোন গাড়ি তোর কিছুই করতে পারবে না৷ আমি বাবাকে বলি, তুমি তো ক্রাচ নিয়ে আছো বাবা। আমায় পার করতে তুমি যদি পড়ে যাও তোমার কোমরে আবার লাগবে৷ বাবা হাসতে হাসতে বলে ধুর বোকা। আমি বাবার হাত ধরে রাস্তা পার হতে থাকি।
এই দুই স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমি পেয়েছিলাম। বাবা চলে যাওয়ার পর ঠিক করেছিলাম পোন্ডিচেরী অরবিন্দ আশ্রমে চলে যাবো। দুর্গাপুরের এক দিদি আমার একটা ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করে দেন। বর্ধমানে ইন্টারভিউ দিতে যাই। পোন্ডিচেরী থেকে আসা একজন সন্ন্যাসী আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। আমায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে বলেছিলেন। তারপর একটা ডেক্স দেন। নীচে বসতে বলেন। তারপর আমায় একটা সাদা কাগজ দিয়ে তিনটে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বলেন না ভেবে। ৩ সেকেন্ড সময়ে। শুধু উত্তর টুকুই। ১) সমুদ্র, পাহাড় নদীর মধ্যে পছন্দ। ২) পছন্দের ফুল ৩) পছন্দের রঙ।
আমি আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম তিনি আমার দেখা স্বপ্নের কথা কিভাবে জেনেছিলেন। যে স্বপ্ন আমি বাবাকে নিয়ে দেখি। শিক্ষকতার কাজ দিতে চেয়েছিলেন। ২০০০ টাকা দক্ষিনা। একটা ঘর। একজন আদিবাসী পাহাড়াদার সহ। বর্ধমানের একটি জায়গা। পুরো একা থাকতে হবে৷ কোথাও যাওয়া যাবে না৷ সেই দিদির বোন আমায় অনেকভাবে মানা করে। তখন বয়স আমার অল্প৷ সেখানে কাজ করতে দেন নি যে দিদার বাড়িতে তখন থাকতাম। পোন্ডিচেরী হলে চলে যেতাম।
পরবর্তীকালে নিজের স্বপ্নের ব্যাখ্যা পেয়েছি। অনিশ্চিত জীবনে লড়াই করতে করতে এগিয়ে চলা বাবার হাত শক্ত করে ধরে। যেতে যেতে বাবা আমায় ডেকে কাছে বসিয়ে বলেন, শোনো নিজেকে কখনো একা ভাববি না। আমি সব সময় তোর সাথে থাকবো। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। যখন তোর মনে হবে আমাকে তোর ভীষণ দরকার। জানলা দিয়ে আকাশের দিকে তাকাবি। আমি ঠিক আসবো। আমার রূপ তুই দেখতে পাবি না হয়তো। অন্য কারো রূপ নিয়েই আমি তোর পাশে এসে, তোর বিপদে ঠিক হাত ধরেই থাকবো। কত বিপদ, কত সমস্যা, কত লড়াই লড়তে লড়তে যখন ক্লান্ত হই, জানলা দিয়ে তাকাই। পার হতে থাকি কত বন্ধুর পথ….
কিছু জীবনের কর্ম হোক বা ধর্ম, তা হলো লড়াই। লড়াই লড়তেই হয়। এখন আমি ভয় পাই না। জেনেছি লড়াই ই আমার কর্ম। আজ বুঝতে পারি সকলের জন্য এক এক রকমের কর্ম নির্দিষ্ট করা থাকে। তাই করতে হয় তাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews