1. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Rahman Sabit : Fauzur Rahman Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

বাজেট খরচে নিম্ন বাস্তবায়নমুখী শিক্ষা মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫
‘বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রত্যাশায় আগামীর বাজেট: আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়াসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা, ২৪ মার্চ।

বাজেট খরচে নিম্ন বাস্তবায়নমুখী শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করতে হবে। বর্তমানে শিক্ষা ব্যয় অনেক বেশি। সবার জন্য এত টাকা শিক্ষা ব্যয় করা সম্ভব নয়, উচ্চ শ্রেণির মানুষেরা পারলেও মধ্যম শ্রেণি, রিকশা চালক বা নিম্ন বিত্তের জন্য তা অনেক বোঝা হয়ে যায়। তাই প্রাথমিকের পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা ও সেকেন্ডারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০০-১০০০ হাজার টাকা দিতে হবে। সোমবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রাক-বাজেট শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় গণসাক্ষরতা অভিযান।

‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় শিক্ষা বাজেট: আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা কনসালটেশন কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমদ ও সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা কী করে যেন সবার মাইন্ডসেট (মনোজগৎ) থেকে, অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে চলে গেছে। নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে এমনটি দেখা যাচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়নের সবচেয়ে হাতিয়ার শিক্ষা। কিন্তু এটি কী করে যেন অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে।

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, একটি গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে নবতর স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। সেই জায়গায় প্রথম দাবি হবে শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে সম্মানিত আলোচক ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার মূল যে চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য, সেটা হলো একটি চরম বৈষম্য বা অসাম্য নানা রকমভাবে। এর একটি হলো শিক্ষার তিন ধারায় একধরনের বৈষম্য আছে। আবার প্রতিটি ধারায় আছে আরেক বৈষম্য। যেমন মূল ধারা অর্থাৎ বাংলা মাধ্যমে কিছু বিদ্যালয় আছে অভিজাত বা এলিট, সেগুলো একটু ভালো। বিত্তশালী বা যাঁদের একটু সুযোগ আছে, তাঁরা সেখানে যান। বাকি সাধারণ সরকারি স্কুল বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, সেগুলোর মান ততটা নেই। আবার নানা রকমের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে। মাদ্রাসায়ও নানা ধারা ও ভালো–মন্দ আছে। অর্থাৎ শিক্ষায় যেগুলোয় গুণমান আছে, সেগুলোর সুবিধা নেন কেবল সুবিধাপ্রাপ্তরা। বাকি অধিকাংশ সেই গুণমানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

মনজুর আহমদ বলেন, ‘অথচ বিরাট আন্দোলন হলো, পটপরিবর্তন হলো বৈষম্যবিরোধী সমাজ চাই, বৈষম্য দূর করতে চাই। কিন্তু শিক্ষা যে বৈষম্যের একটি বাহন এবং শিক্ষা বৈষম্য উত্তরণের উপায় না হয়ে বৈষম্য রক্ষা করার একটি ব্যবস্থা হিসেবে চালু আছে। সেটি নিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তেমন কোনো আলাপ–আলোচনা দেখলাম না। নানা সংস্কারের কথা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো কমিশনও হলো না। আগে যেমন খণ্ডিতভাবে, আংশিকভাবে ও বিচ্ছিন্নভাবে নানা রকম কাজ হতো, এখনো সেই ধারাই চলছে।’

কেবল প্রাথমিক শিক্ষা মানোন্নয়নের জন্য নিজের নেতৃত্বে একটি কমিটি হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়েও কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন অধ্যাপক মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, তাঁরা বিচার–বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত কিছু সুপারিশ করেছেন। কিছু পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তা–ও যেন মনে হচ্ছে খণ্ডিতভাবে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে দীর্ঘদিনেও সব শিক্ষার্থী সব বই না পাওয়ায় সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ ছাড়া এত কমিশন হলো, কিন্তু শিক্ষার জন্য কমিশন না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষার বাজেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিক্ষার বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেওয়া টাকাই ব্যয় করতে পারে না। এটি আরেক সমস্যা। একদিকে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার, অন্যদিকে আবার মন্ত্রণালয় খরচ করতে পারে না। আবার খরচও যা করে, সেগুলোও গুণগত মানসম্মতভাবে খরচ হয় না। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, ২০২২ সালে বাজেটে যা ঘোষণা হয়েছিল, তার মধ্যে ৭৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে। অর্থাৎ ২২ শতাংশ বাস্তবায়নই করতে পারেনি। এই যে নিম্ন বাস্তবায়নমুখী একটি মন্ত্রণালয়, এই গ্যাঁড়াকল থেকে বের হতে হবে।

এখন ১৫ শতাংশ, ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে গণসাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন এডুকেশন ওয়াচের ফোকাল পয়েন্ট ও গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ২০১৬–১৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র উল্লেখ করে বলেন, টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বাড়লেও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসেবে তা কমছে। কয়েক বছর ধরে মোট বাজেটের ১১ শতাংশের ঘরে আটকে আছে শিক্ষা খাতের বাজেট। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ হয় বাংলাদেশে।

এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে তা কীভাবে ২০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তার পথরেখা দেওয়ার দাবি করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করে সে পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা, প্রাথমিকে শিক্ষাপ্রতি উপবৃত্তির টাকা মাসে ৫০০ টাকা এবং মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা ও তার ওপরের শ্রেণিতে ১ হাজার টাকা করা, মিড ডে মিল সর্বজনীন করাসহ আরও কিছু দাবি জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews